দুরদুরান্তে যাবার সময় প্রায়ই মনে মনে একটা প্রার্থনা করি, ‘আজ যেন অন্তত বয়স্ক পুরুষ বা বয়স্ক নারী ভিক্ষুকের মুখোমুখি হতে না হয়’। পিতৃতুল্য বা মাতৃতুল্যা কেউ সন্তানতুল্য আমার কাছে ভিক্ষার হাত পাতলে তাতে যে সন্তানেরই পাপ হয়।কারণ ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে আমি ভিক্ষাবৃত্তিকে উৎসাহিত করিনা। এবার কেউ কিছু চাইলে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে ন্যূনতম কিছু না দিলে যে পাপ হয়, সে পাপ না হয় আমার মাথায় থাক। কিন্তু তারপরেও ভিক্ষাবৃত্তিকে কখনোই উৎসাহিত করতে পারব না। তাছাড়া এখন ভিক্ষাবৃত্তি একটি লাভজনক পেশা। তাই ভিক্ষুককে দান করা হবে নিম্নস্তরের রাজসিক ও নিকৃষ্ট তামসিক দান। নিম্নস্তরের রাজসিক দান এই কারণে যে, ভিক্ষুককে সামান্য অর্থ দানের বিনিময়ে বিধাতার কাছ থেকে নিজের জন্য কিছু চাওয়ার ইচ্ছা অনেকের ন্যায় আমার মনেও জাগতে পারে যেটা অত্যন্ত অনুচিত। আর নিকৃষ্ট তামসিক দান হবে এজন্য যে, দান করতে হয় যোগ্য স্থান, কাল ও পাত্রে। অযোগ্য পাত্রে দান অবশ্যই নিকৃষ্ট দান। আর পেশাজীবী ভিক্ষুক অবশ্যই দানের অযোগ্য পাত্র।

সেদিন নৌযানে ভ্রমনকালে এক ভদ্রলোক এক অল্পবয়সী নারীকে ভিক্ষা তো দিলেনই না, উল্টো নারী ভিক্ষুকদের প্রতি তার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তার গৃহে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্য একজন মহিলা প্রয়োজন। তিনি তাকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা দিতে রাজী। এবং, তিনি তার সবকটি মৌলিক চাহিদা পুরণের ব্যবস্থাও করতে রাজী। অর্থাৎ তার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান মৌলিক চাহিদা গৃহকর্তা তার বাসাতেই পুরণ করার ব্যবস্থা করবেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচও গৃহকর্তা বহন করবেন, সে চাইলে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমেও গৃহকর্তা তাকে অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করে দিবেন! কিন্তু তারপরেও তিনি দীর্ঘদিন যাবত কোন কাজের মহিলা পাচ্ছেন না! কিন্তু রাস্তাঘাটে মহিলা ভিক্ষুকের অভাব নেই! আমি তাকে হিসেব করে দেখালাম, ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী নৌযানে সে দৈনিক আসা-যাওয়া করে আট ঘন্টায় কমপক্ষে দৈনিক এক হাজার টাকা, মাসিক ত্রিশ হাজার টাকা উপার্জন করবে। তাহলে সে তার বাসায় দৈনিক আট ঘন্টা কাজ করে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ও থাকা-খাওয়াসহ সাকুল্যে দশ হাজার টাকা কেন গ্রহণ করবে!?