চিকিৎসক সমাজের বাইরের কেউ নয়

সমাজ যখন সর্বৈব পঁচে যায় তখন সেই পঁচনের আঁচ চিকিৎসকের গায়েও লাগে। চিকিৎসক সমাজের বাইরের কেউ নয়,সেও সমাজেরই অংশ।তবে চিকিৎসকের সামান্যতম পঁচনটুকুও সকলের চোখে পড়ে। অন্যান্য পেশাজীবীদের বৃহত্তম পতনও অনেক ক্ষেত্রে চোখেই পড়ে না।সেজন্যই চিকিৎসা ছাত্রজীবনে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী দীন মোহাম্মদ স্যার শ্রেণীকক্ষে একদিন বলেছিলেন, “চিকিৎসকদের বহির্বাস এপ্রোনের বর্ণ সাদা শুধু শুভ্রতা ও পবিত্রতার প্রতীকই নয়,এটার আরেকটি গুঢ়ার্থ আছে।শ্বেতশুভ্র সাদা পোশাকে এক ফোটা কালো কালির দাগ অনেক দুর থেকেই চোখে পড়ে।’ আসলেই বাস্তবে তেমনটাই ঘটে।তখন পুরো এপ্রোনের শুভ্রতা ভুলে গিয়ে সমাজের মানুষ সেই একফোঁটা কালির দাগ নিয়েই মেতে ওঠে। সেই এপ্রোনের নগণ্য কালির কালোদাগ তার বাকি বহুগুণ শুভ্রতাকে ম্লান করে দেয়।ঠিক যেমন মানুষকে ৯৯টা উপকার করার পর একটা উপকার করতে না পারলে বা একটা অপকার করে ফেললে মানুষ ৯৯টা উপকার ভুলে গিয়ে একটা উপকার করতে না পারা বা অপকারটাকেই মনে রাখে,তেমনি চিকিৎসক ৯৯ জন রোগীকে সুস্থ করলে ও একজন রোগীকে সুস্থ করতে না পারলে সমাজ চিকিৎসকের ৯৯ জন রোগীর উপকার করাকে ভুলে গিয়ে সেই একজন রোগীর উপকার করতে না পারাটাকেই মনে রাখে, ঠিক শ্বেতশুভ্র এপ্রোনের উপর সামান্য কালো কালির উপর সর্বপ্রথম দৃষ্টিপাত হবার মতোই।অন্যান্য পেশাজীবীদের চিকিৎসকদের মতো সাদা বর্ণের বহির্বাস নেই।তাদের কারো বহির্বাস কালো,কারো নীল,আবার কারো বিভিন্ন বর্ণের মিশেল। তাই প্রতীকী হলেও বাস্তবিক অর্থে তাদের পোশাকে সামান্য দাগ তো দুরের কথা, বিশাল কালো কালির দাগও সমাজের চোখে পড়েনা।

সেই পঁচে যাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা অল্প হলেও সমাজ সর্বৈব পঁচে গেলে এরকমটা হবেই।যে গোয়ালা সবজায়গা হতে ভেজাল খাবার কিনতে বাধ্য হয়,সেও একদিন দুধে জল দিতে বাধ্য হয়।কারণ খাঁটি দুধ বিক্রির বিনিময়ে যখন গোয়ালাগণ বাকি সকলের কাছ থেকে ভেজাল জিনিসই কিনতে বাধ্য হয়,তখন কিছু গোয়ালার মনে এক ধরণের জেদ কাজ করে যার বশবর্তী হয়ে তারাও দুধে জল মেশাতে বাধ্য হয়।কিন্তু যারা খাদ্যে বিষ দিচ্ছে,গোয়ালা যাদের কাছ থেকে ভেজাল কিনে খাচ্ছে,তারা সকলেই গোয়ালার কাছে গিয়ে কৈফিয়ত চায়, গোয়ালা কেন দুধে জল মিশালো!?কিন্তু গোয়ালা যখন তাদেরকে একই ধরণের প্রশ্ন করে,তারা কেন খাদ্যে বিষ মেশাচ্ছে,তখন তারা সকলেই গোয়ালার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়!

সকল পেশাজীবী সৎ ও বৈধ উপার্জন দ্বারা একে অপরকে সৎ হতে উৎসাহিত করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *